ওজন না বাড়িয়ে খাদ্যতালিকায় ভাত রাখার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ

লাইফস্টাইল ৭ আগস্ট ২০২৬ ৩০৩৫

শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি ভাত বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ মেনে চললে সাদা ভাত খেয়েও মেদ জমতে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান পুষ্টিবিদরা।

ওজন না বাড়িয়ে খাদ্যতালিকায় ভাত রাখার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ

দৈহিক ওজন বৃদ্ধি পেলে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে ভাত ছাঁটাই করে ওটস কিংবা কিনোয়ার মতো বিকল্প খাবার বেছে নেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল ভাত খাওয়ার কারণেই ওজন বাড়ে—এই ধারণা একেবারেই ভুল। ভাতে বিদ্যমান জটিল কার্বোহাইড্রেট শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তাই মেদ কমানোর পর্বেও পরিমিত পরিমাণে ভাত খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাবারের থালাকে চারটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। থালার অর্ধেক অংশ শাকসবজি ও ফলমূল দিয়ে পূর্ণ করা উচিত। বাকি অংশের এক ভাগে ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, ডিম বা পনিরের মতো চর্বিহীন প্রোটিন এবং শেষভাগে ভাত বা শর্করা রাখা যায়। দৈনিক শক্তির চাহিদা নির্ভর করে বয়স, লিঙ্গ, দৈহিক ওজন এবং পরিশ্রমের মাত্রার ওপর। সাধারণ বিচারে ৬৫ কেজি ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রায় ২,১১০ ক্যালোরি ও সমওজনের নারীর ১,৬৬০ ক্যালোরির জোগানের দরকার পড়ে। এক কাপ সেদ্ধ সাদা ভাত থেকে শরীরে প্রায় ২০০ ক্যালোরি আসে, তাই প্রতিদিন আধা থেকে এক কাপ ভাত রাখা নিরাপদ।

অতিরিক্ত ভাত খেলে শরীরে বাড়তি শর্করা চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক। ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত ডাল, সবজি ও প্রোটিনজাতীয় খাদ্য যুক্ত করলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। অন্যদিকে, লাল বা ব্রাউন চালে আঁশ বেশি থাকলেও তা খেলেই ওজন কমবে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তাছাড়া এসব চাল ব্যয়বহুল এবং অনেকের ক্ষেত্রে হজমের সমস্যাও তৈরি করতে পারে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত মাত্রায় সাদা ভাত খাওয়াও সমান কার্যকর।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন