কাজে প্রশংসার পর তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তার নেপথ্যে মনস্তাত্ত্বিক কারণ

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ৩১০৯

কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পাওয়ার পরও অনেকের মনে ব্যর্থতা বা অন্যকে হতাশ করার ভয় তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের মানসিকতা ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপই এই উদ্বেগের মূল কারণ।

কাজে প্রশংসার পর তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তার নেপথ্যে মনস্তাত্ত্বিক কারণ

কর্মক্ষেত্রে বড় কোনো সফলতা অর্জনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীদের প্রশংসা মনকে আনন্দিত করার কথা। অথচ অনেকের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। প্রশংসা পাওয়ার পর তারা আনন্দে ভেসে যাওয়ার বদলে ভবিষ্যতে এই সুনাম বজায় রাখতে পারবেন কি না, সেই চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়েন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল নিখুঁত কাজের আগ্রহ নয়, বরং অন্যকে হতাশ করার গোপন দুশ্চিন্তাই এমন মানসিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারার ভয়কে ব্যর্থতার ভয় বলা হয়। তবে অন্যকে হতাশ করার বিষয়টি একেবারেই আলাদা। এটি মূলত সম্পর্ক ও সামাজিক প্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই ভয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মনে করেন, কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে না পারলে কাছের মানুষ বা সহকর্মীরা তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। ফলে তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব ঘাড় পেতে নেন এবং সামান্য বিশ্রাম নিতে গেলেও অপরাধবোধে ভোগেন।

সাধারণত প্রশংসা আত্মপ্রত্যয় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্ববোধে ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে প্রশংসা উল্টো মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে তাদের মনে হতে থাকে, পরবর্তী সময়ে আরও ভালো কিছু করে দেখাতে হবে। ফলে অসুস্থ অবস্থাতেও ছুটি নেওয়া বা বাড়তি কাজকে প্রত্যাখ্যান করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এই ধরনের মানসিক সমস্যার পেছনে অনেক সময় ইম্পোস্টার সিন্ড্রোমের প্রভাব থাকে। এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে ব্যক্তি নিজের অর্জিত সাফল্যকে নিজের যোগ্যতা হিসেবে মানতে পারেন না। তারা ভাবেন, কেবল ভাগ্য বা পরিস্থিতির কারণে সফলতা এসেছে এবং যেকোনো দিন সবাই তাদের আসল সীমাবদ্ধতা বুঝে ফেলবে।

মনোবিজ্ঞানীদের অভিমত, এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের ভিত রোপিত হয় বাল্যকালে। যেসব শিশু ভালো ফল বা নিখুঁত আচরণের ওপর ভিত্তি করে বড়দের ইতিবাচক মন্তব্য পায়, তারা ভাবতে শুরু করে যে সফলতা ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো মর্যাদা নেই। পরিণত বয়সেও তারা অন্যের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখার চেষ্টা করে চলে।

এই মানসিক চাপ কমাবার জন্য নিজের সাফল্যকে সাহসের সঙ্গে মেনে নেওয়া এবং ভুলের সুযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি। শতভাগ নিখুঁত হওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই শরীর ও মনের সুস্থতায় কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা চাওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন