কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রভাবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন সংকট ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষতার ঘাটতি পূরণ ও দ্রুত অভিযোজনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনের চলাকালে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স ও আধুনিক কৃষিতে নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অটোমেশনের ফলে চিরাচরিত কাজের সুযোগ কমছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কম দক্ষ কর্মী ও চাকরিপ্রার্থী যুবসমাজ।
শিক্ষিত তরুণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। পোশাক শিল্পের মতো বড় খাতে এআই ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও প্রশিক্ষণহীন শ্রমিকরা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। উপযুক্ত কারিগরি ও বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাবে নিয়োগদাতারাও উপযুক্ত কর্মী পেতে সংকটে পড়ছেন।
কর্মসংস্থানে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ, যাতায়াত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল শ্রমিকের আয়ের সুরক্ষাও হুমকির মুখে। কেবল উচ্চশিক্ষার প্রশংসাপত্র নয়, বরং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সাথে মানানসই প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতাই আগামী দিনের চাকরির বাজারে প্রধান শর্ত হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি কেবল কর্মসংস্থান কমায় না, বরং সফটওয়্যার তৈরি, সাইবার সুরক্ষা, অনলাইন ব্যবসা ও সবুজ প্রযুক্তিতে বহু নতুন কাজের সুযোগ আনে। এসব সুযোগ বাস্তবায়নে ইন্টারনেট পরিকাঠামো জোরদার, শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, কর্মীদের পুর্নপ্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
