কুমড়ার বীজের তেলে পুরুষদের চুল কমা রোধে নতুন সম্ভাবনা

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৬৬৩

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ম মেনে কুমড়ার বীজের তেল ব্যবহারে পুরুষদের মাথায় চুলের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিকে টাক পড়ার একমাত্র নিশ্চিত চিকিৎসা মানতে নারাজ।

কুমড়ার বীজের তেলে পুরুষদের চুল কমা রোধে নতুন সম্ভাবনা

কম বয়সেই মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ফাঁকা হয়ে যাওয়া এখন অনেকের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পুরুষদের এই ধরনের চুল দেখাকে ‘মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস’ বলা হয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই জটিলতায় কুমড়ার বীজের তেল বেশ ফলপ্রসূ হতে পারে।

উক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ টানা ২৪ সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে কুমড়ার বীজের তেল গ্রহণ করেছেন, তাদের মাথার চুলের সংখ্যা গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি গবেষকরা মাথার স্ক্যাল্প পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, অংশগ্রহণকারীদের চুল আগের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে ঘন ও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বংশগত টাক সমস্যার প্রধান কারণ ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন বা ডিএইচটি নামক হরমোন। এই হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে চুলের ফলিকল বা গোড়া ছোট হতে থাকে, যার ফলে নতুন চুল খুব পাতলা ও দুর্বল হয়ে গজায় এবং একপর্যায়ে চুল পড়ে টাক তৈরি হয়।

কুমড়ার বীজের তেলে রয়েছে ফাইটোস্টেরল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা যুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। গবেষকদের ধারণা, এই উপাদানগুলো ডিএইচটির ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এগুলো মাথার ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে মুক্ত রেখে চুলের গোড়াকে সতেজ করে তোলে, যা নতুন চুল গাজানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।

তবে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন, গবেষণার এই ফল আশাব্যঞ্জক হলেও কুমড়ার বীজের তেলকে নিশ্চিত প্রতিষেধক হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ চুল ঝরার পেছনে শুধু ডিএইচটি নয়, বরং থাইরয়েড, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বংশগতি কিংবা হরমোনের তারতম্যও দায়ী হতে পারে। তাই সঠিক জীবনযাপন, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই তেল ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন