চোখের ছানি ও তার কার্যকর অস্ত্রোপচার চিকিৎসা

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ৩০৩৫

বাংলাদেশে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চোখের ছানি। ওষুধে এর নিরাময় সম্ভব না হওয়ায় সময়মতো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা যায়।

চোখের ছানি ও তার কার্যকর অস্ত্রোপচার চিকিৎসা

বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ দৃষ্টিহীন মানুষের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের অন্ধত্বের প্রধান কারণ চোখের ছানি। মানবচোখের স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ লেন্সটি কোনো কারণে অস্পষ্ট বা অস্বচ্ছ হয়ে পড়লে রেটিনায় আলো পৌঁছাতে পারে না, যা ছানি পড়া নামে পরিচিত।

সাধারণত বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যা দেখা দিলেও অনিয়ন্ত্রিত বহুমূত্র বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা অল্প বয়সেও হতে পারে। এছাড়া চোখে আঘাত লাগা, শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ঝালাই বা ক্ষতিকর বিকিরণে কাজ করা এর অন্যতম কারণ। দীর্ঘকালীন চোখের প্রদাহ, অতিরিক্ত রোদ বা অতিবেগুনি রশ্মি, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, ভিটামিনের অভাব এবং ধূমপান বা অ্যালকোহলে আসক্তিও ছানির ঝুঁকি বাড়ায়।

এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, আলোর চারপাশে রঙের ছটা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং একটি জিনিসকে দুটি দেখা। অনেক সময় দীর্ঘদিনের চশমা ব্যবহারকারী ব্যক্তি চশমা ছাড়াই হঠাৎ কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পান, যা ছানি পড়ার একটি উপসর্গ।

ছানির চিকিৎসায় বিলম্ব হলে লেন্স ফুলে যেতে পারে অথবা ফেটে ভেতরের তরল নিঃসৃত হতে পারে। এর ফলে চোখের চাপ বেড়ে প্রচণ্ড ব্যথাসহ চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ওষুধ দিয়ে ছানি নিরাময় করা সম্ভব নয়, কেবল শল্যচিকিৎসাই এর একমাত্র সমাধান। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্সটি বের করে সেখানে একটি কৃত্রিম লেন্স স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এসআইসিএস কিংবা আরও আধুনিক ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন প্রযুক্তির সাহায্যে নামমাত্র কেটে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন