চীনা প্রতিষ্ঠানের এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব নাকচ করল সরকারি ক্রয় কমিটি
মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চীনা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পরিচালনা ব্যয় অতিরিক্ত হওয়ায় প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়।

দেশে বিদ্যমান গ্যাস সংকট মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোমে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) গড়ার বিষয়ে চীনা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব সায় দেয়নি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার আয়োজিত সরকারি ক্রয় সভার বৈঠকে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য উপস্থাপিত এই প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই) এই টার্মিনাল গড়ার কাজ পেতে দরপত্র জমা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ১৫ বছরের মেয়াদের জন্য আনুমানিক ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছরের জন্য প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়। গত ১৯ জুনের প্রস্তাবনায় টার্মিনালটির দৈনিক পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে চীনা প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক খরচ ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার। যেখানে বর্তমানে পরিচালিত এক্সিলারেট এনার্জির দৈনিক ব্যয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিট এলএনজির পেছনে খরচ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। অর্থাৎ সিএনইই-র প্রস্তাবে গ্যাস খালাসের এই ব্যয় চলমান খরচের চেয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে বর্তমানে চালু থাকা দুটি টার্মিনালের কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের ক্যাবলে অগ্নিকাণ্ডের ফলে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল, যা আংশিকভাবে সচল হতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লাগে।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপি সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পায়রা, মোংলা এবং হিরন পয়েন্টে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিদেশি বিনিয়োগ খোঁজা হচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এলএনজি টার্মিনাল তৈরিতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার তাগিদ দেন। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে সক্ষমতা দেখালে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
