জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনে যেভাবে কর্টিসল কমিয়ে মন মেজাজ ভালো রাখবেন

লাইফস্টাইল ৭ আগস্ট ২০২৬ ৪৬২৬

মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে রেখে মেজাজ ফুরফুরে রাখা সম্ভব। প্রিয়জনের সান্নিধ্য, শখের কাজ, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও সুষম খাদ্যাভ্যাস প্রতিদিনের মন খারাপ দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনে যেভাবে কর্টিসল কমিয়ে মন মেজাজ ভালো রাখবেন

কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দিনের যেকোনো সময় হুট করে মন খারাপ হয়ে যাওয়া বা কিছুই ভালো না লাগার পেছনে মূল ভূমিকা রাখতে পারে 'কর্টিসল' নামক মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন। তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া পরিচালনা ও শরীরের প্রদাহ কমানোর মতো বেশ কিছু দরকারি কাজও এই হরমোন করে থাকে। কিন্তু রক্তে এর পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলেই বিষণ্নতা চেপে বসে।

এই হরমোনের প্রভাব কমাতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে কাছের মানুষদের সান্নিধ্য দারুণ ভূমিকা রাখে। দিনের শুরুতেই সন্তানকে জড়িয়ে ধরা, সঙ্গীর হাত স্পর্শ করা কিংবা প্রবীণ অভিভাবকদের পাশে কিছুক্ষণ নিভৃতে সময় কাটানো মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

মনের ভেতরে জমে থাকা নানা অব্যক্ত অনুভূতিও অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। এসব জটিলতা এড়াতে বিশ্বস্ত কারো কাছে নিজের মনের কথা প্রকাশ করা অথবা ডায়েরির পাতায় তা লিখে রাখা যেতে পারে। এর পাশাপাশি ব্যস্ততার মাঝেও গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা রান্নার মতো পছন্দের শখগুলোর জন্য কিছুটা সময় রাখলে মেজাজ চাঙ্গা থাকে।

একঘেয়ে ঘরের ব্যায়ামের বদলে প্রতিদিন ভোরে খোলা বাতাসে হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। চিকিৎসকদের মতে, সকালে খালি পায়ে শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটলে দ্রুত মানসিক প্রফুল্লতা ফিরে আসে, যা কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর।

খাদ্যাভ্যাসে পরিমিত পরিবর্তন আনাও জরুরি। সকালে খালি পেটে চা-কফি পানের অভ্যাস কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়; এর পরিবর্তে ভেষজ চা পান করা ভালো। পাশাপাশি কাঠবাদাম, কলা ও তাজা সালাদের মতো ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ডিম, মাছ এবং কুমড়ার বীজের মতো ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরে 'সেরোটোনিন' বা আনন্দদায়ক হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন