নাট্যকার সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনে উদযাপিত

বিনোদন ১৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। জন্মদিন উপলক্ষে স্মরণসভা, আলোচনা ও তিন দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

নাট্যকার সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনে উদযাপিত

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অনন্য ব্যক্তিত্ব সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে। এই বিশেষ দিনে তার নাট্যচর্চার পরিধি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা উঠে এসেছে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থিয়েটার ও স্বপ্নদল ব্যতীত অন্যান্য দলের মাধ্যমে তার নাটকের মঞ্চায়ন তুলনামূলক কম দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার রচনার অনন্য ও বর্ণনাত্মক শৈলী জটিল হওয়ায় সব দলের পক্ষে তা পরিবেশন করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে নাট্য নির্দেশক জাহিদ রিপন জানান, বাংলা নাটকের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং উপনিবেশোত্তর যুগের রূপান্তর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও গবেষণাধর্মী ভাবনা না থাকলে সেলিম আল দীনের সৃষ্টিকর্ম চর্চা করা দুরূহ। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক এই ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাট্যদল ও গ্রাম থিয়েটার নিয়মিতভাবেই তার লেখা নাটক মঞ্চে নিয়ে এসেছে।

জন্মবার্ষিকী উদযাপনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী উৎসবে যোগ দিয়েছে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সেলিম আল দীন সংগ্রহশালা’ আলোচনা ও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে, যেখানে আজফার হোসেন একক বক্তৃতা দেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ‘ধাবমান’ নাটকটি পরিবেশন করে। এ ছাড়া স্বপ্নদলের তিন দিনের নাট্যোৎসব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে জন্ম নেওয়া এই নাট্যকার বিশ্বমঞ্চের প্রচলিত ধারা পাশ কাটিয়ে দেশীয় নন্দনতত্ত্বের ভিত্তিতে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ প্রবর্তন করেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের পাশাপাশি তিনি ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘সংবাদ কার্টুন’, ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ এবং ‘শকুন্তলা’-র মতো বিখ্যাত নাটক রচনা করেছেন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় প্রয়াত হওয়ার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন