নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪৭৫, নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কা
হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ প্লাবনে নেপালে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে পৌঁছেছে এবং নয়শতের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। এর মাঝেই নদীতে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাধারের বাঁধ ভেঙে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হিমবাহ ধসের জেরে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপাল। গত ২৬ আগস্ট সকালে রাসুয়া জেলায় তিব্বত সীমান্তবর্তী লেন্দে নদী দিয়ে কাদা ও শিলাখণ্ডের তীব্র প্রবাহ নেমে এসে এই দুর্যোগের সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর প্লাবনে বহু লোকালয়, সড়ক, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।
২৮ আগস্ট নেপাল পুলিশ জানায়, উদ্ধারকাজ চলার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে পৌঁছেছে। ঘটনার দুই দিন পার হলেও নয়শতের বেশি বাসিন্দা ও দর্শনার্থী নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্ধানকাজে হেলিকপ্টার, ভারী সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নামানো হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৪২ জন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। ঢলের কাদায় একাধিক বসতি ও জনবহুল বাজার সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
চলমান দুর্যোগের মধ্যেই নতুন করে আরও বড় ধরনের প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলে একটি প্রকাণ্ড কৃত্রিম জলাধার তৈরি হয়েছে। ২৭ আগস্ট সকালে এই হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে ছিল, যা পরবর্তী তিন দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জলাধারটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিশাল পানি গড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পুনরায় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
