পোলট্রি খামারে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৭৭৬

বাণিজ্যিক পোলট্রি খামারে বিপজ্জনক ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, এটি খাদ্যে বিষক্রিয়াসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

পোলট্রি খামারে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক উপায়ে পরিচালিত বাণিজ্যিক খামারগুলোতে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিগত ৩৫ বছরে খামারজাত মুরগিতে এই জীবাণুর মাত্রা প্রায় ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পভিত্তিক নিবিড় পোলট্রি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং মানুষের তৈরি নানা পরিবেশগত পরিবর্তন সংক্রামক রোগের ব্যাপ্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

গবেষকদের মতে, সঠিকভাবে সেদ্ধ না করা কিংবা সংক্রমিত মুরগির মাংস গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণত মানুষের শরীরে এই জীবাণু প্রবেশ করে। যুক্তরাজ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার অন্যতম প্রধান অনুঘটক এটি, যেখানে গত বছর প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত হন। ফুড হাইজিন সার্টিফিকেট প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর এই ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুস্থতায় আনুমানিক ১০০ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া ২০১৬ সালের তুলনায় বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গের রোগী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত সাত দিনের মধ্যে নিরাময় লাভ করলেও গুরুতর ক্ষেত্রে এটি জীবনঘাতী হতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ঘটানোর পাশাপাশি অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর পেছনেও এই জীবাণুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে খামার ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মুরগির মাংস সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্নার ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকেরা।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন