পশু জবাই বিতর্ক: ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যা দিয়ে জবি প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ

বাংলাদেশ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৭৭৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে যেকোনো সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার সবারই রয়েছে।

পশু জবাই বিতর্ক: ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যা দিয়ে জবি প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই বন্ধে দেওয়া নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পূর্বে জারি করা বিজ্ঞপ্তির কারণে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝির জন্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো ধরনের উৎসব উদযাপনের এখতিয়ার শিক্ষার্থীদের রয়েছে। তবে একটি আয়োজনের কারণে যেন অন্য কারো উদযাপনে ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

মূলত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্না নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ অমান্য করলে সিটি করপোরেশনের বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার предупреждение দেওয়া হয়েছিল।

এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরব হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা। জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির নীতিগত ভিত্তি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে জকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক নৈশভোজ কর্মসূচির ডাক দেন এবং ভিপি রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রশাসন জানায়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আগের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই ওই অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শোকজ করার ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি গুজব ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন