বাংলাদেশের ওটিটিতে সত্য ঘটনা অবলম্বনে কনটেন্ট নির্মাণের প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জ
সত্য ঘটনাকে ভিত্তি করে নির্মিত ওটিটি কনটেন্ট দর্শকের আস্থা বাড়ালেও নির্মাতাদের সামনে নৈতিকতা ও সংবেদনশীলতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সংবাদের শিরোনাম থেকে বিভিন্ন সংবেদনশীল ঘটনা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চল বাংলাদেশের ওটিটি মাধ্যমে ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। আর্থিক জালিয়াতি, পারিবারিক বিয়োগান্তক ঘটনা, শিশু নির্যাতন, সামাজিক অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার মতো বাস্তব বিষয়গুলো এখন ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হুবহু অনুলিপি না করে গবেষণার সাথে কল্পনার মিশ্রণে বিনোদনমূলক কাহিনি তৈরি করছেন নির্মাতারা।
বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে কনটেন্ট বানানোর একটি বড় উদাহরণ ‘মানি হানি’। কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের একটি ঘটনা নিয়ে তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এটি তৈরি করেন। তানিম নূরের মতে, সংবাদপত্রের খবর থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এর বড় অংশই কল্পিত। একই পরিচালকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ ‘একাত্তর’ তৈরি হয় মেজর জেনারেল (অব.) খাদিম হোসেন রাজার একটি বই ও ‘অপারেশন ব্লিটজ’কে কেন্দ্র করে, যা কোনো ঐতিহাসিক দস্তাবেজ না হয়ে আমজনতার অনুভূতির গল্পে পরিণত হয়েছে।
পারিবারিক অপরাধ ও রহস্য নিয়ে নির্মিত কাজের মধ্যে অন্যতম ‘আগস্ট ১৪’। ২০১৩ সালে ঢাকার চামেলীবাগে পুলিশ দম্পতির হত্যাকাণ্ডে তাঁদের কন্যার জড়িত থাকার খবর থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিহাব শাহীন এটি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের কাশর এলাকায় ট্রেনের নিচে এক পরিবারের নয়জনের করুণ মৃত্যুর সূত্র ধরে ভিকি জাহেদ নির্মাণ করেন ‘চক্র’। পরিচালক জানান, ঐতিহাসিক সত্য ও বাস্তব অনুসন্ধানের ওপর কল্পনার স্তর সাজিয়ে গল্পটি বড় পর্দায় আনা হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিজ্ঞতা থেকেও নির্মিত হচ্ছে বহু চিত্রনাট্য। ২০১৯ সালে সিডনিতে নিজের কন্যার সাথে ঘটা আতঙ্কজনক ঘটনার অভিজ্ঞতায় শিহাব শাহীন নির্মাণ করেন ‘বাবা, সামওয়ানস ফলোয়িং মি’। ২০১২ সালের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ইমরাউল রাফাত তৈরি করেন ‘তনয়া’, যেখানে এক কিশোরীর সামাজিক ও পারিবারিক সংগ্রামের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়। আবার শাঁখারী বাজারের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর কঠিন লড়াইকে শঙ্খ দাশগুপ্ত পর্দায় এনেছেন ‘প্রিয় মালতী’ কাজের মাধ্যমে।
নির্মাতাদের মতে, সত্য ঘটনা ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো গল্পে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তুলে ধরা। পরিচালক সৈয়দ আহমেদ শাওকী তাঁর ‘তাকদীর’ নির্মাণের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বাস্তব জীবন ফুটিয়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বাস্তব মানুষকে বিনোদনের চরিত্র বানানোর ক্ষেত্রে নৈতিকতার সুরক্ষা এবং সত্য বিকৃতি না ঘটানোর চ্যালেঞ্জ থেকে যায়।
