মিষ্টি আলুর নানাবিধ স্বাস্থ্যগুণ ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে এর কার্যকারিতা
মিষ্টি আলু ভিটামিন এ-র অন্যতম বড় উৎস, যা চোখের জ্যোতি বাড়ানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করে খেলে এর থেকে সর্বাধিক পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।

সাধারণ ও সহজলভ্য সবজি হলেও মিষ্টি আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর। ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ জানিয়েছে, মানবদেহে ভিটামিন এ-র ঘাটতি মেটাতে এই সবজি দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে চর্বির পরিমাণ বেশ কম, কিন্তু প্রচুর পরিমাণে জটিল কার্বোহাইড্রেট, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এর শাঁসে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়।
‘ইউরোপিয়ান ফুড রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নাল’-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাঝারি আকারের একটি মিষ্টি আলু থেকে প্রায় ৯৬১ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ (রেটিনল অ্যাক্টিভিটি ইকুইভ্যালেন্ট) পাওয়া যায়, যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার শতভাগের চেয়েও বেশি। তবে সব রঙের আলুতে এই পুষ্টির পরিমাণ এক নয়। কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে ভিটামিন এ সবচেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে বেগুনি আলুতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকলেও ভিটামিন এ কিছুটা কম এবং সাদা আলুতে রঞ্জক পদার্থ কম থাকায় ভিটামিন এ-র উপস্থিতিও সর্বনিম্ন।
চিকিৎসা সাময়িকীগুলোর তথ্যানুসারে মিষ্টি আলুর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, চোখের রেটিনায় রোডোপসিন তৈরিতে সাহায্য করে এটি রাতকানা রোগ দূর করে ও কর্নিয়া ভালো রাখে। দ্বিতীয়ত, এটি শরীরের জন্মগত ও অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ রোধ করে। তৃতীয়ত, ত্বক পুনর্গঠন করে এর সুরক্ষাবলয় মজবুত করে। চতুর্থত, রেটিনোইক অ্যাসিডে পরিণত হয়ে এটি প্রজনন টিস্যু ও ডিম্বাশয়ের সচলতা বাড়াতে সাহায্য করে। পঞ্চমত, এটি ক্ষতিকর পরিবেশ দূষণ ও মানসিক চাপ থেকে শরীরের অঙ্গসমূহ রক্ষা করতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
ইউএসডিএ এর তথ্য অনুযায়ী, মিষ্টি আলু খেলে ভিটামিন এ-র বিষক্রিয়া হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না, কারণ শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিটা-ক্যারোটিন ব্যবহার করে। তবে অতিরিক্ত খেলে আঁশের কারণে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। সেদ্ধ, বেক বা রোস্ট করে অথবা সামান্য অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি সহকারে এটি খাওয়া ভালো। দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষ করে নিরামিষভোজী, শিশু ও প্রবীণদের খাদ্যতালিকায় এই খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
