যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব দূর করতে প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখার পরামর্শ
নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ও প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ নিজের কাছ থেকেই দূরে সরে যাচ্ছে। মানসিক সুস্থতা ও চিন্তা পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নির্জনে কাটানোর তাগিদ দিচ্ছেন।

শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ও ভিড়ের মাঝেও অনেকে চরম একাকীত্বে ভোগেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও মানুষ নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে ভুলে যাচ্ছে, যা আধুনিক নাগরিক সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা।
ঘুম থেকে উঠেই কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা কিংবা সংসার সামলানোর দৌড়ে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি আসে। এর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মনকে আরও চঞ্চল করে তোলে। মানুষ ভার্চুয়াল মাধ্যমে বহুজনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজস্ব অনুভূতি অনুধাবনের সুযোগ পায় না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাহ্যিক সামাজিক যোগাযোগ বজায় রেখেও নিজের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা বজায় থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে অবসাদে রূপ নেয়।
তবে কষ্টদায়ক একাকীত্ব এবং স্বেচ্ছায় নিজের সঙ্গে সময় কাটানো এক বিষয় নয়। একা সময় কাটানো একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অভ্যাস, যা মানসিক চাপ সামলানোর শক্তি জোগায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কিছুটা সময় নিভৃতে কাটালে তা মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে কাজের গতি ফেরায়।
আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্জন মুহূর্তে চারপাশের কোলাহল মুক্ত থাকলে মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটে। জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই নিভৃত সময় মানুষকে স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।
নিজে নিজের সঙ্গ উপভোগ করার জন্য শহরের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সকালে ফোন হাতে নেওয়ার আগে বারান্দায় চা পান করা, জ্যাম এড়িয়ে হেঁটে চলা কিংবা ছুটির দিনে ছাদে নীরবে সময় কাটানোর মাধ্যমে এটি সম্ভব। কৃত্রিম কোনো পর্দা ছাড়া প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা সুস্থ জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি।
