সৌদিতে হুতিদের হামলা: ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ১০০টি ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার ৪০০ যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে দেশটির আকাশপথে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১০০টি উড্ডয়ন বাতিল কিংবা স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো। নির্ধারিত যাত্রা ব্যাহত হওয়ায় অন্তত ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী বিপাকে পড়েছেন।
শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্থগিত হওয়া সূচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪১টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে ৫৯টি। সরাসরি চলাচলের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১০টি যাত্রা স্থগিত করেছে। এছাড়া সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি করে বিমান বাতিল হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা, আর বিমান বাংলাদেশ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।
ট্রানজিট রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের ইন্ডিগো, যাদের ২২টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি এমিরেটসের ১৪টি, কাতার ও সালাম এয়ারের ৭টি করে, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ২টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ঢাকার যাত্রীরা মূলত সৌদির রিয়াদ, দাম্মাম, মদীনা ও জেদ্দা—এই চার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে থাকেন।
হামলার ধাক্কায় রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একইসঙ্গে দাম্মামের বাদশাহ ফাহাদ বিমানবন্দরের ফ্লাইট সূচিতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে মদীনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে উড্ডয়ন স্বাভাবিক রয়েছে এবং জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার পর আবার বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রিয়াদ ও দাম্মামগামী আটকে পড়া বিমানযাত্রীদের বিকল্প হিসেবে টিকিট থাকা সাপেক্ষে মদীনা ও জেদ্দা দিয়ে পৌঁছানোর সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে এয়ারলাইন্সগুলো। বিমান বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে পুনর্বুকিংয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সব আসন পূর্ণ রাখতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি ও ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর যাত্রীদের ফেরত আনার ঘটনাও ঘটছে, তবে পরবর্তী উড্ডয়নে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে সৌদির বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। রিয়াদ বিমানবন্দরে দুপুর সোয়া ৩টার প্রাণঘাতী হামলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হন, যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে আরামকোর সদরদপ্তরে আঘাত হানার পর হুতি বিদ্রোহীরা বুধবার পুনরায় সতর্ক করেছে যে, সৌদির হামলা না থামলে তারা বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতে পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখবে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে বিমান চলাচল আরও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
