স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনেও ফিরছে না সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ
বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনের পর সাময়িক কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও অল্প দিনেই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য জনবল ও সরঞ্জাম সংকট দূর করার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অন্তত ৩০টি হাসপাতালে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এসব সফরের সময় অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিক বদলি বা বরখাস্তের ঘটনাও ঘটেছে। তবে চিকিৎসা খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হুট করে সফর এবং সাময়িক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়।
মে মাসে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সফরের চার মাস পর সরেজমিনে সেখানে আগের মতোই অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রটির জন্য ১২৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রয়োজন হলেও কাজ করছেন মাত্র ৫৩ জন। শয্যাসংখ্যার চেয়ে তিন গুণ রোগীর উপস্থিতির কারণে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা রাখা কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাছুম হাসান। এছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন শৌচাগারগুলোর দুরবস্থা দূর করার তাগিদ দেওয়ার পর পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গত ২৯ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শনের পর কিছুদিন চিকিৎসা ও পরিবেশের মান উন্নত হলেও পরে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনা ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করার ভোগান্তি রয়ে গেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার এই অবস্থার পেছনে লোকবল ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। একইভাবে সেপ্টেম্বর মাসে সিলেটে গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বললেও ৯০০ শয্যার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার রোগীর চাপে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কষ্টসাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আচমকা পরিদর্শনের পদ্ধতির সমালোচনা করে চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও অন্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডাক্তারদের অনুপস্থিতির চেয়ে হাসপাতালগুলোর ল্যাব, স্টোর, ওষুধ ও আধুনিক সরঞ্জামের সংকট মেটানো বেশি জরুরি। পক্ষান্তরে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, এই অভিযানের কারণে জনগণ ইতিবাচক সেবা পাচ্ছে এবং শীঘ্রই এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।
