হাসিনার মন্তব্যের অনুমোদন দেয় না দিল্লি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রাজনীতি ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৮১৩

দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য ভারত অনুমোদন করে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যে দিল্লির সমর্থন নেই বলে জানান তিনি।

হাসিনার মন্তব্যের অনুমোদন দেয় না দিল্লি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া কোনো বক্তব্যই ভারত সরকার অনুমোদন করে না বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিদ্যমান বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে, তার প্রতি দিল্লির কোনো সমর্থন বা অনুমোদন নেই।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে পদচ্যুত ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচিটি শুরুর আগেই বাংলাদেশ সরকার এ নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক তৎপরতা চালালে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করবে। সেই আপত্তির পর ভারত সরকার জানিয়েছিল যে, বেসরকারি ওই আয়োজনের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটিতে শেখ হাসিনা অডিও বার্তায় যুক্ত হন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। ভারতের মাটিতে এই ধরনের কর্মসূচি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমতাবস্থায় শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল জানান, বেসরকারি একটি সংবাদ সংস্থার উদ্যোগে ওই কর্মসূচি হয়েছিল এবং তাতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মুখপাত্র হিন্দি ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ওই মঞ্চ থেকে বিশেষ করে বাংলাদেশের আইনসম্মত সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, ভারত সরকার তা কোনোভাবেই অনুমোদন করে না।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন