১২ বছরের স্থবিরতা শেষে চালু হলো চীন ও উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু

বাংলাদেশ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩০৩৫

এক যুগের টানাপোড়েন কাটিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্ত করা নতুন ইয়ালু নদী সেতুটি চালু করা হয়েছে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ অবকাঠামোটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

১২ বছরের স্থবিরতা শেষে চালু হলো চীন ও উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু

দীর্ঘ এক যুগের আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হয়েছে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী নবনির্মিত সড়ক সেতু। ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ নামের এ সেতুটি চীনের সীমান্ত সংলগ্ন দানদং ও উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু শহরকে যুক্ত করেছে। তৎকালীন জাপানি শাসনকালে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে এটি দুই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের প্রধান পথ হতে চলেছে।

প্রকল্পটির কাজ ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অভিযাত্রাকে কেন্দ্র করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে সময় উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকার অবকাঠামো ও সংযোগ সড়কের উন্নয়ন বন্ধ রাখায় প্রকল্পটি আটকে যায়। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মাও নিং মন্তব্য করেন, এ নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিবেশি দুটির বাণিজ্য বাড়াতে এবং সরাসরি সম্পর্ক জোরালো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিধি মহামারী-পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে প্রায় ২৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। যার বড় অংশই চীনা পণ্যের আমদানিনির্ভর। তবে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার দরুন এ রুটে সীমান্ত বাণিজ্য দ্রুত গতিতে বাড়বে না বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কাং জুন-ইয়ং। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে পিয়ংইয়ং যেমন সজাগ, তেমনি বেইজিংও সাবধানতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এডওয়ার্ড হাওয়েল পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, এক দশক আগে পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক ক্ষমতামুক্ত করার বিষয়ে বেইজিং সোচ্চার থাকলেও বর্তমানে তারা এ ইস্যুতে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া মহামারী পরবর্তী সময়ে ট্রেন ও আকাশপথ উন্মুক্তের পাশাপাশি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক সুসম্পর্কের বিষয়টিও বেইজিংয়ের নজরে রয়েছে।

চলতি বছরের জুনে চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর ও কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর সীমান্ত যোগাযোগ ত্বরান্বিত হয়। এ প্রসঙ্গে সিউলের এহওয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি জানান, সেতুটির উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির প্রমাণ দিলেও এর পেছনের দীর্ঘ বিলম্বই স্পষ্ট করে দেয় উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো সামলানো বেইজিংয়ের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন