ইমিগ্রেশন জালিয়াতির তদন্তে ডেমোক্রেট সদস্য ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই পরোয়ানা কার্যকর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের স্বার্থে আদালত থেকে প্রাপ্ত পরোয়ানা অনুযায়ী গত ১২ অক্টোবর সকালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওমরের অভিবাসন নথিপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই এই অনুসন্ধান। ওমরের শৈশবে তার প্রয়াত পিতা ওই কাগজ তৈরি করেছিলেন বলে দাবি উঠলেও এ নিয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তল্লাশির সময় ওমরের বাসভবনের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মীদের দেখা গেছে।
অভিযানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ইলহান ওমর অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করছে। তবে এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে নিরব রাখা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে এই তল্লাশির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টিকে বিচার বিভাগের নিজস্ব বিচার্য ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি জানান, ইলহান ওমরের কর্মকাণ্ড সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পূর্বেও ওমরের সাবেক স্বামীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের অভিযোগে ট্রাম্প সমর্থকেরা ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল ও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা ওমর সবসময় অস্বীকার করেছেন।
সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। রাশিদা তালিবের পাশাপাশি তিনিই মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম নির্বাচিত দুই মুসলিম নারী প্রতিনিধির একজন। শুরু থেকেই তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
