কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়: ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রশাসনিক বাধার মুখে ট্রাম্প
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত না হলেও বাজেট, আইন পাস ও উচ্চপর্যায়ের নিয়োগে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাট দল। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই নতুন কংগ্রেসের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন একটি বিভক্ত সরকারের মুখোমুখি। এতে তাঁর সাংবিধানিক পদে কোনো পরিবর্তন না এলেও প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় জটিলতা তৈরি হবে।
নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, সরকারের ওপর অসন্তোষ ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। তবে শুধু প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই নয়, স্থানীয় ইস্যু ও প্রার্থীর ভূমিকাও এ ফল নির্ধারণে কাজ করেছে। দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের মাধ্যমে ট্রাম্পের শাসননীতির বিরুদ্ধে জনগণের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভোটে পরাজয় সত্ত্বেও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল রয়েছে। তিনি আগের মতোই সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং প্রশাসনিক নির্দেশ জারির ক্ষমতা রাখেন। ফলে পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেদের ঘোষিত নীতি চালিয়ে যেতে পারবে।
তবে নতুন কংগ্রেস এখন সরকারের বাজেট অনুমোদন, নতুন আইন তৈরি ও নজরদারির ক্ষমতা ভোগ করবে। বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে বিরোধী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রশাসনিক অনিয়ম, সীমান্ত অভিযান এবং ইরান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তদন্ত চালাতে পারবেন। এতে প্রশাসনের গৃহীত কাজ সরাসরি বাতিল না হলেও জনসমক্ষে জবাবদিহিতার চাপ বাড়বে।
নতুন আইন অনুমোদন ও সরকারি অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এখন বড় বাধা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট কোনো বিলে ভেটো দিলে তা বাতিলের জন্য উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বিচারক বা ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন আবশ্যক হওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা তা বিলম্বিত করতে পারে।
যদিও ট্রাম্প বিরোধীদের সাথে কাজ করার কথা বলেছেন, তবে স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করার সিদ্ধান্ত কঠোর নীতি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে সহযোগিতার চেয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা ও তদন্ত নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
