কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকদের সব সমস্যা সমাধান করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষকদের সকল সংকট মেটাতে সরকার ‘কৃষি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর মাধ্যমে উৎপাদন পরিকল্পনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও জোরদার হবে।

কৃষি খাত ও কৃষকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার ‘কৃষি কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এই কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় সারের চাহিদা আগেই নিরূপণ করা সম্ভব হবে। ফলে ফসল কাটার আগেই সরকার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে, যা পর্যায়ক্রমে কৃষকদের সব ধরনের জটিলতা দূর করবে। গত বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের দুই দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জিত হলেই জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে। তাই কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক তথ্য তুলে ধরে প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম জানান, ২০২৩ সালে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার ৩১টি উপজেলার ৬ ৩৩টি চরাঞ্চলে ৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প শুরু হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬৫ হাজার পরিবার সুফল পাবে, যার অগ্রগতি বর্তমানে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষ যাতে জীবিকার তাগিদে শহরমুখী না হয়ে চরাঞ্চলেই পশুপালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের মাঝে ২৫টি বকনা বাছুর, প্রতিজনকে ৫০ কেজি গোখাদ্য ও চারা গাছ বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে মাথাবাঙ্গা খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনাও অবমুক্ত করা হয়।
