জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ওয়াকআউটে লজ্জিত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ ৫ আগস্ট ২০২৬ ৩০৭২

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও ওয়াকআউটের ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ওয়াকআউটে লজ্জিত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও অতিথিদের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়ে এটিই ছিল তার প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করাকে একটি বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আহমেদ আযম খান একাধিকবার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরও এ ধরনের জাতীয় অনুষ্ঠান বয়কট ও হট্টগোল চালিয়ে যাওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পরেই এর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে উপস্থিত আহত ব্যক্তি, শহীদ স্বজন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে অসংগতি তুলে ধরেন। হট্টগোলের কারণে কয়েকজন বিদেশি অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করায় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন নিজ সমর্থকদের শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও অনুসারীরা তা মানেননি বলে হাফিজ উদ্দিন মন্তব্য করেন। জনগণের গণরায়ে গঠিত বর্তমান সরকারকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ত্রুটি হলে তার জন্য সরকার মাশুল দিতে প্রস্তুত, তবে সকলে মিলে তা শুধরে নেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দৃষ্টিশক্তি হারানো এক আন্দোলনকারী ও তার মায়ের আবেগঘন উপস্থিতির কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশ্বাস দেন যে, আন্দোলনে নিহতদের স্বজন এবং আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর ৮২ বছর বয়সে এসেও গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। কোনো ধরনের বিদ্বেষ বা বিভাজন যাতে জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সরাসরি আপডেট

টি আপডেট
  1. এখনো কোনো আপডেট যোগ করা হয়নি।
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন