জাতীয় ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জাতীয় জীবনে অতীত ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ ও সম্প্রীতি রক্ষায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা প্রদানের সরকারি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা জাতীয় সম্প্রীতি, সমতা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে কোনো দেশের ভিত মজবুত করা সম্ভব নয়। কর্তৃত্ববাদ, অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্মবাণী অনুধাবন করা জরুরি।
গণতন্ত্র রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় সেবকদের মর্যাদা ও কল্যাণ সাধনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি বিভিন্ন উপাসনালয়ের দায়িত্বরতদের জন্য বিশেষ সম্মানী দেওয়া শুরু হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়কে এই ভাতার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বহুধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন, বিভাগীয় সদরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং ইমামদের দক্ষতা বাড়াতে 'ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি' প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। পরবর্তীকালে ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, দুর্নীতি ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আলেমদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তরুণ সমাজকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে মসজিদের মিম্বর থেকে মহানবী (সা.)-এর জীবনসংগ্রামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।
