জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের পৃথক পরিষদ গঠনের উদ্যোগ

কমিউনিটি নিউজ ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৪৭৩৭

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি সংসদীয় কমিটির বাইরে খসড়া তৈরির লক্ষ্যে বিকল্প সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের পৃথক পরিষদ গঠনের উদ্যোগ

গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের বিরোধী জোট সরকারি বিশেষ সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম বয়কট করে সংসদের বাইরে একটি ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এই পরিষদ গণভোটে পাস হওয়া প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের একটি খসড়া প্রণয়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় জনমত গঠনে কাজ করবে।

জোটের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রস্তাবিত পরিষদে তাদের জোটের সাংসদ, শরিক দলের প্রতিনিধি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই সনদে সই করা দলগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত ছয় দফা দাবিতে জোটটি জানায়, গণভোটে গৃহীত মৌলিক পরিবর্তন সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলে জনগণের রায়ের অপপ্রয়োগ হতে পারে। গেজেট অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিরাই সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার কথা ছিল।

অন্যদিকে সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই পরিবর্তন আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুসারেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৩ নভেম্বর কমিটির দশম বৈঠকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দান, প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস এবং জুলাই আন্দোলনকারীদের সুরক্ষাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন পেশাজীবী ও শহীদ পরিবারের মতামত নিয়ে একটি সংশোধনী বিল তৈরি করে সংসদে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, একক দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার ভারসাম্য ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মতো মৌলিক বিষয় সমাধান করা সমীচীন হবে না। যদিও সংসদের বাইরে গঠিত হতে যাওয়া এই বিকল্প পরিষদের সিদ্ধান্ত কতটা আইনি মর্যাদা পাবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। জোটের নেতারা একে কোনো বিকল্প রাষ্ট্রীয় কাঠামো না বলে জনমত তৈরির একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মঞ্চ হিসেবে দেখছেন, যার পূর্ণাঙ্গ রূপচিত্র আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বিরোধীদের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের দ্রুত সুরাহা না হলে একই লক্ষ্য পূরণে দুটি ভিন্ন ধারা তৈরি হতে পারে। এতে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন