জেলা পর্যায় তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে সরকারের দায়িত্ব অর্পণ

বাংলাদেশ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৬২৬

সারাদেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

জেলা পর্যায় তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে সরকারের দায়িত্ব অর্পণ

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাদক ও দুর্নীতি দমনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশের ৬৪টি জেলায় সরকারি নানা কর্মকাণ্ডের তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত একটি আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অতীতে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নকাজের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। লুট করা এই অর্থের একাংশ দেশের বাইরে পাচার হয় এবং অবশিষ্ট অংশ মাদকসহ জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে জেলা পর্যায়ে এই তদারকি দায়িত্ব বণ্টন করা হলো।

দায়িত্ব পাওয়ার তালিকায় ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজারের তদারকি করবেন।

চট্টগ্রামে মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে আসাদুল হাবিব দুলু দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দেখাশোনা করবেন। জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া টাঙ্গাইল ও নরসিংদীতে মো. শরিফুল আলম, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে শামা ওবায়েদ ইসলাম, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আব্দুল বারী, ঢাকায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দায়িত্ব পেয়েছেন। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব পেয়েছেন হাবিবুর রশিদ।

বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে মো. রাজীব আহসান, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে মীর শাহে আলম এবং সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ফারজানা শারমিন দায়িত্ব পালন করবেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠিতে আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, জয়পুরহাট ও নওগাঁয় মোহাম্মদ শামীম কায়সার, সিলেট ও সুনামগঞ্জে আলহাজ্ব মো. জি কে গউস, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে দায়িত্ব পেয়েছেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।

মনোনীত এই প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ দমন, চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে মাঠপর্যায়ের দফতরগুলোকে পরামর্শ দেবেন। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান তৈরিতে তদারকির পাশাপাশি প্রয়োজনে তারা জেলা পর্যায়ের সভায় উপস্থিত হতে পারবেন। তবে স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য আইনি প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ক্ষমতায় কোনো প্রভাব না ফেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন