জাহাজের যাত্রী পরিবর্তন ও অভ্যর্থনা: ‘ভাইকিং সি’ ক্রুজের অভিজ্ঞতার বিবরণ
নিউ ইয়র্ক থেকে ইতালির সমুদ্রবন্দরে পৌঁছে ‘ভাইকিং সি’ ক্রুজে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং ‘টার্নঅ্যারাউন্ড ডে’-তে জাহাজের সার্বিক পরিচালনা ও ক্রুদের ব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরেছেন এক ভ্রমণকারী।

জেএফকে বিমানবন্দর থেকে ইতালির সিভিতাবেচিয়া সমুদ্রবন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে সফরকারীদের রোম যাত্রা শেষ হয়। বাসচালক রাফায়েল ভ্রমণকারীদের নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে সমুদ্রযাত্রার শুভকামনা জানিয়ে বিদায় জানান। এরপর লাল গালিচা ও ব্যানারে সজ্জিত বিশাল ‘ভাইকিং সি’ ক্রুজ জাহাজে শুরু হয় তাদের জীবনের প্রথম সমুদ্রভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা।
জাহাজের 'ডেক এ'-তে প্রাথমিক নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়। মূল অভ্যর্থনা ডেস্কে যাত্রীর পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরায় ছবি তুলে একটি বিশেষ ‘স্টেটরুম কার্ড’ হস্তান্তর করা হয়। এই কার্ডটিই বোর্ডিং, কক্ষের চাবি, ব্যায়ামাগার ও লকারের চাবিসহ পুরো সফরের মূল পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভেতরে প্রবেশের করিডোরে ক্রু সদস্যরা উষ্ণ তোয়ালে ও পানীয় জল দিয়ে অতিথিদের ক্লান্তি দূর করার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তী ধাপে ‘ডেক-টু’তে ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে শ্যাম্পেন পরিবেশন করার পর যাত্রীদের একটি বসার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট ব্যবহারের নিয়ম, জরুরি সংকেত ও লাইফবোটের অবস্থান সম্পর্কে একটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক মারিয়া জানান, দুপুর একটা থেকে সাততলার ‘ওয়ার্ল্ড ক্যাফে’তে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হবে এবং দুইটার মধ্যে নিজ নিজ কেবিনে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে নিউ ইয়র্ক থেকে আসা ওই যাত্রী ও তার সফরসঙ্গী বাবুল জাহাজ ঘুরে দেখার বদলে সরাসরি সাততলার স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীতে সাজানো রেস্তোরাঁয় যান। রেস্তোরাঁর প্রবেশমুখে হাত ধোয়া ও তোয়ালে ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। রেস্তোরাঁর পেছনের অংশে সুইমিং পুল ও ‘আকুয়াভিট টেরেস’ নামে খোলা আকাশের নিচে খাওয়ার ব্যবস্থা দেখা যায়।
সেখানে রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত কেরালা বংশোদ্ভূত ভারতীয় নাগরিক রাজেশ নায়ারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। কথা প্রসঙ্গে রাজেশ জানান, হোটেল ম্যানেজমেন্টের উন্নত প্রশিক্ষণ ও পূর্ব পরিচিতির সুবাদে ভাইকিং ক্রুজসহ বড় জাহাজগুলোতে কেরালা, গোয়া ও তামিলনাড়ু থেকে প্রচুর ভারতীয় কর্মী কাজ করেন। যাত্রীদের শারীরিক ক্লান্তি দেখে তিনি দ্রুত চায়ের ব্যবস্থা করেন।
আলাপকালে রাজেশ জাহাজের ‘টার্নঅ্যারাউন্ড ডে’-র পরিচালনগত প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ দিনে সকালের মধ্যে ৯৩০ জন পুরনো যাত্রীকে নামিয়ে ১০টার মধ্যে বিমানবন্দর পাঠানো এবং দুপুরের পর থেকে নতুন ৯৩০ জন যাত্রীকে জাহাজে তুলে তাদের লাগেজ নির্দিষ্ট কক্ষে পৌঁছাতে হয়। সকাল থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে জাহাজের সুনির্দিষ্ট পরিচ্ছন্নতা, লন্ড্রি, জ্বালানি ও বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী তোলার কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে হয় বলেই নতুন যাত্রীদের দুপুর ২টার আগে কেবিন দেওয়া সম্ভব হয় না।
