দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

বাংলাদেশ ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৮৫০

ভারতের মাটিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ঢাকা বিষয়টিকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

দিল্লিতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির দিনে গত ৫ আগস্ট ভারতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি অডিও বক্তব্য দেন, যেখানে ওই অভ্যুত্থানকে তিনি চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। বিষয়টিকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তিকে এভাবে রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের আস্থার সম্পর্ক ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই আয়োজনের আগেই ঢাকাস্থ ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দিল্লিকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কারো রাজনৈতিক মন্তব্য করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে। তা সত্ত্বেও হাসিনাকে সেখানে অডিও বার্তা দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর ৭ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্ট করেন, ওই অনুষ্ঠানে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সমর্থন বা যোগসাজশ নেই। ভারত সরকার এটিকে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দাবি করলেও ২০১৮ সালের এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত সামনে আসছে। সেসময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আপত্তির মুখে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়নি ভারতের তৎকালীন মোদী সরকার।

ভারতের এই অবস্থানকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে হস্তান্তর না করে রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর সরাসরি আঘাত। অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, ঢাকার এই কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া কৌশলগতভাবে কতটা কার্যকর হবে তা দেখার বিষয়, তবে এতে সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়ল।

দুই দেশের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, দ্বিপক্ষীয় বন্ধন সব সময় সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজ দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে বজায় থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা বা তার সহযোগীরা যেন বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তমূলক তৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন