দেশে সার নিয়ে মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা, পর্যাপ্ত মজুদের দাবি সরকারের
আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট ও বাড়তি দাম নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে। তবে সরকারের দাবি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বণ্টন ব্যবস্থার গলদকে দায়ী করছেন।

আমন ধান চাষের এই সময়ে দেশের একাধিক এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী রাসায়নিক সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের কাছে চাহিদা মাফিক সার না পেয়ে কিংবা বাড়তি দামে কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সম্প্রতি কুড়িগ্রামে একটি গুদাম থেকে সার লুট হওয়ার ঘটনা ঘটার পাশাপাশি ঝিনাইদহ ও রাজশাহীর কৃষকরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কেনার কথা জানিয়েছেন। অপরদিকে, ডিলারদের দাবি তারা চাহিদা অনুযায়ী সরকারি সরবরাহ পাচ্ছেন না।
মাঠের এমন বিশৃঙ্খল চিত্র সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম সংকটের কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার জমা রয়েছে, যার মধ্যে ইউরিয়া চার দশমিক ৮২২ লাখ টন, টিএসপি তিন দশমিক ৬৯ লাখ টন, ডিএপি তিন দশমিক ৬৮ লাখ টন এবং এমওপি এক দশমিক ৪৬ লাখ টন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাহিদা মেটাতে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকেও সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবে চাহিদা অনুযায়ী দেশের কারখানাগুলোতে সার উৎপাদিত হয় না। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৮৩ শতাংশ আমদানি করতে হয়েছে। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে সারের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে শুধু ইউরিয়াই লাগে সাড়ে ২৬ লাখ মেট্রিক টন।
বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে তিন সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। ওই কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, পুরাতন ডিলারদের বাদ না দিয়ে বরং তাদের কমিশন বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দাবি করেন, ঘাটতির খবরটি বাস্তবের চেয়ে অপপ্রচারই বেশি। সুষ্ঠু বণ্টনের লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও অধ্যাপক রিপন কুমার মণ্ডল মনে করেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পর বাজারে সার না পাওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে নতুন মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের আবির্ভাব কিংবা বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন না। অসাধু মজুদদারি বন্ধে প্রতিটি উপজেলায় সারের সঠিক বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞরা।
