নিউইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের গুলিতে যুবক আহত, গাড়িতে ছিল ৫ বছরের শিশু

কমিউনিটি নিউজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২৯২৪

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানে ২৮ বছর বয়সী এক ডোমিনিকান যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার সময় গাড়িতে শিশু থাকা সত্ত্বেও গুলি চালনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নগরীর মেয়র জোহরান মামদানি।

নিউইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের গুলিতে যুবক আহত, গাড়িতে ছিল ৫ বছরের শিশু

আমেরিকার নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার অভিবাসন বিভাগের পরিচালিত অভিযানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ২৮ বছর বয়সের এক তরুণ আহত হয়েছেন। অস্কার বেলগাল নামের উক্ত ব্যক্তি ডোমিনিকান রিপাবলিকের বাসিন্দা। তিনি যখন গাড়িটি পার্ক করছিলেন, তখন ছদ্মবেশে থাকা কয়েকজন মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তা তাঁর কাছে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজন নির্মাণশ্রমিকের পোশাক পরা ছিলেন। গাড়িটি সামনের দিকে গড়ালে ওই কর্মকর্তা পরপর সাতটি গুলি ছোড়েন, যার মধ্যে একটি গুলি চালকের কানের নিচের অংশে আঘাত করে। এ সময় যানবাহনে থাকা পাঁচ বছরের এক শিশু কোনো আঘাত ছাড়াই রক্ষা পায়।

এই ঘটনার পর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। তিনি একে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে নগরীতে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের যাবতীয় তৎপরতা বন্ধ করার দাবি উত্থাপনের কথা জানিয়েছেন। পরবর্তীতে মেয়র জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই গুলিবিদ্ধ যুবককে হাসপাতাল থেকে নিজেদের জিম্মায় সরিয়ে নিয়েছে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব মার্কওয়েন মুলিন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও যোগাযোগ করে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা অবহিত করেছেন।

অপরদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তর (ডিএইচএস) জানায়, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধের ইতিহাস থাকা এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে শিশুর উপস্থিতি থাকা অবস্থায় এভাবে বলপ্রয়োগ কতখানি সঙ্গত ছিল, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। স্থানীয় পুলিশ প্রধান জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, অভিযানটিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কোনো সদস্য যুক্ত ছিলেন না। সিসিটিভি ফুটেজে গুলির সময়কার আগের দৃশ্য স্পষ্ট থাকলেও সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চিত্র দেখা যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে মার্বেল হিল এলাকা ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বাইরে ব্যাপক জনবিক্ষোভ শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২১ জন হতাহত হয়েছেন, যার মাঝে সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিউইয়র্কে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় ছদ্মবেশী অভিযান এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার এই প্রশ্নটি তাঁদের মধ্যেও উদ্বেগের সঞ্চার করেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন