নেপালে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব: সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ভাবনে হিমশিম বিশেষজ্ঞরা
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্লাবনের প্রকৃত উৎস এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ভূমিকম্প, হিমবাহ ধস নাকি অতিবৃষ্টি—কোনটির কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা।

সম্প্রতি নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হানা আকস্মিক ঢল ও পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও সড়ক কাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিপর্যয়ের ধরন অত্যন্ত ভয়াবহ হলেও এই আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দুর্যোগের উৎস অনুসন্ধানে একাধিক সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। ঘটনার দিন সকালে তিব্বত সীমান্তে গোসাইকুণ্ডা থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্র ৩ মিনিট পর পাহাড়ি জনপদে পানির তোড় আছড়ে পড়ে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রসুওয়াগাধি সীমান্ত পয়েন্টের কাছে হিমবাহের পাথরধসের পলি লহেন্দে নদী হয়ে ত্রিশূলী নদীতে প্রবাহিত হয়েছে। পাশাপাশি মানস সরোবর অঞ্চলে পূর্ববর্তী দিনের মুষলধারে বৃষ্টিপাত বা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল আইনসভায় জানান যে, ভূমিকম্প ও বন্যার সময়ের সম্পর্ক নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান চলছে। তবে দুর্যোগাক্রান্ত সীমান্ত এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় তাত্ক্ষণিক নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। লাসায় অবস্থানরত নেপালি কনসাল জেনারেল লক্ষ্মী প্রসাদ নিরাউলা জানান, চীনা কর্তৃপক্ষও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি এবং যোগাযোগ মাধ্যম অচল থাকায় প্রকৃত চিত্র তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিমালয় অঞ্চলের সীমান্ত এলাকাগুলোতে এমন বিপর্যয় এটিই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়েও উজান থেকে নেমে আসা হিমবাহের ঢলে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং রসুওয়াগাধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছিল। দুটি দেশের মধ্যে দুর্যোগ পূর্বাভাস ও তথ্য বিনিময়ের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা থাকলেও আনুষ্ঠানিক চুক্তির অভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় জটিলতা থেকে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ত্রিশূলী, ভোতেকোশি ও নারায়ণী নদীর অববাহিকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বিপদের মুহূর্তে নেপালকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে টেলিফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ত্রাণসামগ্রী বহনে সামরিক বিমান প্রস্তুত রাখার কথা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী অসমিত পোখরেল জানিয়েছেন যে বিদেশি সাহায্যের ধরণ নির্ধারণে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি পর্যন্ত জরুরি তহবিল বরাদ্দের প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে।
