নেপালে আকস্মিক বন্যায় আমগাছ আঁকড়ে প্রাণ বাঁচালেন এক শ্রমিক

বাংলাদেশ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ৩১০৯

চীন সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের রাসুয়ায় আকস্মিক বন্যায় ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে বেঁচে গেছেন ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক বিবেক কুমাল। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় আমগাছ আঁকড়ে প্রাণ বাঁচালেন এক শ্রমিক

নেপালের রাসুয়া জেলার বিদুর এলাকায় নতুন একটি বাড়ির প্রাঙ্গণে শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন ২৪ বছর বয়সী বিবেক কুমাল। পাঁচ ফুট গভীর গর্তে কাজ করার সময় হঠাৎ উপর থেকে বিকট শব্দ ও সহকর্মীদের হাঁকডাক শুনে তিনি দ্রুত উপরে উঠে আসেন। তবে মুহূর্তের মধ্যে কাদা, পানি ও পাহাড়ি পাথরের ঢল নামলে চার সহকর্মী নিরাপদে সরতে পারলেও কুমাল ভেসে যান।

পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় ভাগ্যক্রমে তিনি একটি আমগাছ শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। গাছটি আঁকড়ে থাকা অবস্থায় কুমাল দেখতে পান যে বাড়িটিতে তিনি কাজ করছিলেন, সেটি ধ্বংস হয়ে ভেসে যাচ্ছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা বড় একটি পাথরের আঘাতে তার ডান পা জখম হলেও তার নিজের বসতঘরটি নিরাপদ রয়েছে।

কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন বিবেক জানান, সেদিন দৌড় দেওয়া মাত্রই বিকট শব্দে পানির তোড় নেমে এসেছিল। গাছটি না থাকলে হয়তো তার প্রাণ বাঁচত না। তিব্বত সীমান্তঘেঁষা রাসুয়াসহ আশপাশের জেলাগুলোতে আকস্মিক প্লাবন ও ধসে অন্তত ১৬২ জন নিহত এবং বহু বিদেশি নাগরিকসহ কয়েকশত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উল্লেখ্য, কিশোর বয়সে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন কুমাল, যে দুর্যোগে প্রায় নয় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

একই চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রিহানা লামিছানে নামের ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীও একইভাবে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে। সে জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করায় বাড়ি ফেরার পথে নদী পার হতে গিয়ে সে হঠাৎ পানির প্রবল তোড়ে ভেসে যায়। বুকে ও পায়ে আঘাত পাওয়া এই শিক্ষার্থী নিজের জীবন রক্ষা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও তার সহপাঠীদের পরিণতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন