নেপালে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, ফের দুটি আঘাতের শঙ্কা

বাংলাদেশ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭৩৭

নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় পৌনে তিন শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা দ্রুতই আরও দুই দফা বন্যা আঘাত হানার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, ফের দুটি আঘাতের শঙ্কা

নেপালে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা পৌনে তিন শ ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর থেকে এখনও পর্যন্ত আনুমানিক এক হাজার পাঁচ শ বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুব শীঘ্রই সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় নতুন করে প্লাবনের আঘাত নামতে পারে।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপর্যয় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বসন্ত রাজ অধিকারী জানান, খুব দ্রুতই পরবর্তী দুই দফায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, অঞ্চলটিতে প্রবল বর্ষণ আপাতত থেমে গেলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েই গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তারা চীনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিমত দেন।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বুধবার সকালে চীন সীমান্তের কাছের লাংটাং পর্বতের উত্তরাংশে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ে। একই সময়ে সেখানে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন নথিভুক্ত হয়। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া বর্জ্য নেপাল ও চীনের সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া লেন্দে নদীর পথ আটকে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে হ্রদটি ফেটে কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত ত্রিশূলি নদী দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে।

তবে ভূকম্পনের দরুন পাহাড় ধসেছে নাকি হিমবাহ ধসের প্রবল শক্তিতে ভূকম্পিক তরঙ্গ তৈরি হয়েছে—তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে এখনো বিতর্ক রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পর্বতের বরফ স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালের চামোলি ও মেলামচি, ২০২৩ সালের সিকিম এবং পরবর্তী বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬ সালেও বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হলো এই অঞ্চল।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন