নেপাল-চীন সীমান্তে বারবার দুর্যোগের পেছনে অতিবৃষ্টি ও হিমবাহ বিস্ফোরণ

বাংলাদেশ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭৩৭

উঁচু পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, অতিবৃষ্টি এবং হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের ফলে নেপাল-চীন সীমান্তে ঘন ঘন বন্যা ও ভূমিধস ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা উচ্চ হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নেপাল-চীন সীমান্তে বারবার দুর্যোগের পেছনে অতিবৃষ্টি ও হিমবাহ বিস্ফোরণ

ভৌগোলিক অবস্থান, খাড়া ভূপ্রকৃতি, অতিবৃষ্টি এবং হিমবাহ হ্রদের হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ঘন ঘন বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধস হচ্ছে। সম্প্রতি রাসুয়া জেলার ভোতেকোশী-ত্রিশূলী নদীতে অস্বাভাবিক পানি বাড়ার ফলে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলায় তীব্র আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তিব্বত মালভূমির হিমবাহ এবং নেপালের খাড়া পাহাড়ি ঢালে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর কারণে এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই দুর্যোগগুলো বার বার ঘটছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেছেন, গত বছরের মতো এবারও বন্যার উৎস নেপাল নয়, বরং তিব্বত ভূখণ্ডে সৃষ্ট তুষারধস বা হিমবাহ হ্রদের বিস্ফোরণ। তুষারধসে নদীর প্রবাহ থমকে গিয়ে পানির স্তরে ১৫ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৬ সালে তিব্বত অংশে হ্রদ ভেঙে কোদারি ও তাতোপানি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, যার ফলে অর্ণিকো মহাসড়ক এবং আপার ভোতেকোশী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সোলুখুম্বুর থামে অঞ্চল ও রাসুয়াতেও অনুরূপ হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণে জনবসতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়। নদীর গতিপথে পাথর ও কাদা জমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়াজনিত সংকট পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কবার্তার মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনাকবলিত অঞ্চলগুলো তিব্বতের নির্জন স্থানে হওয়ায় কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ নদীর তীর ঘেঁষে নতুন বসতি বা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন