নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ধসে দেড় শতাধিক প্রাণহানি, নিখোঁজ সহস্রাধিক

বাংলাদেশ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ৩০৭২

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে পর্বতধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬৫ জন মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে নয় শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ভারতীয়সহ বহু বিদেশি পর্যটক আছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ধসে দেড় শতাধিক প্রাণহানি, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হঠাৎ ধস ও প্রবল বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্যোগে এখনও ৪০৩ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৪১ জনই বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের বড় একটি অংশ ভারতের বাসিন্দা। এছাড়া উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত ২৮ জন পুলিশ সদস্যের সন্ধান মিলছে না। প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে চিতওয়ান থেকে ৬৪ জন এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাসুয়া এলাকার ভোতেকোশি নদীর প্লাবনে লোকালয়, সড়ক এবং সেতু মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিতওয়ানসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। উপদ্রুত অঞ্চলে ইতিমধ্যে প্রায় আট টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে এবং ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা বলা হলেও পর্বত গাত্র থেকে বিশালাকার বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়াকেই প্রাথমিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টি ও নদী প্রবাহের প্রতিবন্ধকতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে তিব্বতের গিয়িরং সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া কাদা-ধসের ঘটনায় আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই অংশে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। চীন ও নেপালের মধ্যকার পণ্য পরিবহন ও পর্যটকদের যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় এই সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিভিন্ন দেশের বহু পর্যটক আটকা পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের ৩৪ জন এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫৩ জন নাগরিকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে ১২ জন ব্রিটিশ পর্যটক ও তাদের চারজন স্থানীয় নেপালি গাইডের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দারাও দুর্যোগের মুখে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্গত এলাকাটিতে অতিরিক্ত পর্যটকের উপস্থিতির প্রধান কারণ এর তীর্থস্থান সংক্রান্ত গুরুত্ব। তিব্বতের কৈলাস পর্বতের নিকটে অবস্থিত মানস সরোবর এবং নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ একাধিক ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। বছরের এই সময়টিতে, বিশেষ করে পূর্ণিমার সময়ে পূর্ণস্নান ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অসংখ্য ভারতীয় পুণ্যার্থী নেপাল পথ ধরে এই অঞ্চলে সমবেত হন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন