নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৫

বাংলাদেশ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২৮১৩

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে পৌঁছেছে। হিমবাহ গলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে সৃষ্ট এই দুর্যোগে কয়েক শত দেশি-বিদেশি পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৫

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত সংলগ্ন ভূখণ্ডে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৫ জনে ঠেকেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় প্রকাণ্ড হিমবাহ ধসে কাদা ও পাথরের মিশ্র স্রোত তৈরি হওয়ায় এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড শব্দে আসা এই স্রোতের ধাক্কায় নেপালের ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, তিব্বতের গিয়িরং সীমান্ত এলাকায় আরও ৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকর্মীরা পাঁক ও ধ্বসংস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগের মুখে পড়া শত শত মানুষের মধ্যে অন্তত ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ভারতেরই ১৪২ জন পর্যটক রয়েছেন; বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। জনপ্রিয় ট্রেকিং কেন্দ্র সিয়াব্রুবেসি এবং কৈলাস পর্বতের তীর্থযাত্রীরা এই এলাকাতেই ছিলেন। নেপালের উত্তরের রাসুয়া জেলা থেকে শুরু হওয়া এই প্লাবন দক্ষিণ সীমান্তে চিতওয়ান পর্যন্ত সাতটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

উদ্ধারতৎপরতা জোরদার করতে নেপালি সেনাবাহিনী আকাশপথে অভিযান পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। সংস্থাটির নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার পরিস্থিতি বর্ণনা করে জানান যে পুরো লোকালয় ও বাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া চীন সরকার তাদের তিব্বত অংশে নিখোঁজ প্রায় ২৬৫ জনের অনুসন্ধানে আটশো জরুরি কর্মী, ১৫০টি যানবাহন, দ্রুতগতির নৌকা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর মোতায়েন করেছে। চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং নিরুদ্দেশ হওয়া মানুষদের অনুসন্ধানে সর্বশক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা অঞ্চলটিতে আবারও নতুন করে বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছেন। কাঠমান্ডুর আইসিআইএমওডি-র পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা চিয়াংগং ঝাং জানান, নদীর উপরিভাগে এখনো ধ্বংসাবশেষ আটকে থাকায় পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে দ্বিতীয় দফায় বিপর্যয় ঘটতে পারে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষাকালীন ভারী বৃষ্টি ও ধসের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার তীব্রতা ও মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন