নেপালে প্রবল বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩১, নিখোঁজ চার শতাধিক পর্যটক
নেপালের চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক ঢল ও ধসে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ২৯১ জন বিদেশিসহ প্রায় চার শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের হিমালয় সংলগ্ন তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল আকস্মিক বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসের কারণে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে চার শতাধিক মানুষ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্যমতে, এ দুর্যোগে ২৯১ জন বিদেশি ও ১০০ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৩৯১ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান সনাক্তে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে বয়ে যাওয়া কাদা ও পানির তীব্র স্রোতে বহু ঘরবাড়ি এবং যানবাহন ভেসে গেছে। নুওয়াকোটের সুমন চালিসে নামের ৩৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, তাঁর সামনেই পানির তোড়ে আট-নয়টি ট্রাকসহ ঘরবাড়ি ও মানুষ ভেসে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি মরদেহ উদ্ধারের খবর জানানো হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দুর্যোগের কারণে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার জল ও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপদ্রুত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট সংস্থার ভূ-তথ্য বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠা জানান, নেপাল অংশে পাথর ও বরফের ধস নেমে 'লেন্দে' নদীর পথ আটকে যাওয়ার ফলেই এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
