নেপাল সীমান্তে কৃত্রিম জলাধার ফেটে আকস্মিক বন্যা, নিহত শতাধিক

বাংলাদেশ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২৮১৩

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে পাহাড়ধসে সৃষ্ট সাময়িক প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে তীব্র বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনায় কয়েক শ পর্যটকসহ অসংখ্য মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সীমান্তে কৃত্রিম জলাধার ফেটে আকস্মিক বন্যা, নিহত শতাধিক

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নদীতে পাহাড়ি ধস ও বরফ জমে পানির গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে সেখানে একটি সাময়িক জলাধারের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে কাদা, পাথর ও বিপুল পরিমাণ পানি একযোগে তীব্র বেগে নিচের দিকে নেমে এলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

সীমান্তের মিতেরি সেতু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে জমে থাকা ওই ধ্বংসাবশেষ কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ধরা পড়ে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বরফধস ও পাহাড় ধসে নদীর পানি আটকে তৈরি হওয়া অস্থায়ী লেকটি ভেঙে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। শুধু পানি প্রবাহিত হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম হতো, তবে পলি ও পাথরের কারণে বন্যার ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

অন্য একটি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, তিব্বতে সংঘটিত ৪.৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন এই বরফের স্তরকে স্থানচ্যুত করে থাকতে পারে। যদিও বন্যার পেছনে ভূমিকম্পের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ দুর্যোগে নেপাল অংশ থেকে অন্তত ১০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে ঘুরতে আসা ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্তের তিব্বত অংশে ৩ জনের প্রাণহানি এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিব্বতের বাণিজ্যিক এলাকায় ধসের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চালানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জানান, সকালে তার স্বজন ফোন করে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার কথা জানান। পরিবারের তিন সদস্যকে বাঁচানো সম্ভব হলেও তার ভাই এখনও নিখোঁজ। চিত্রাবলীতে নদীর প্রচণ্ড স্রোতে বহু বাড়িঘর তলিয়ে যেতে ও কাদামাটিতে চাপা পড়তে দেখা গেছে।

উদ্ধার কাজে নেপালি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ নদীর তীরবর্তী অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়াতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূচনা।

এই জলোচ্ছ্বাসে নেপালের বিদ্যুৎ খাতও বড় ধাক্কা খেয়েছে। জল ও সৌরবিদ্যুৎ মিলে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, নদীর উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা থেকে যাওয়ায় পুনরায় বন্যা ও ধসের আশঙ্কা রয়ে গেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন