মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লড়াই ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও গভর্নর পদে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী দুই বছরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের দুই কক্ষ—নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির শাসনব্যবস্থায় যেকোনো বিল আইনে পরিণত করতে এই উভয় কক্ষের পাস হওয়া জরুরি। প্রেসিডেন্ট চার বছরের মেয়াদের দুই বছর পার করার পর এ ভোট অনুষ্ঠিত হয় বিধায় একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ৩৯টি স্থানে গভর্নর নির্ধারণে ভোট প্রদান করছেন নাগরিকেরা।
এবারের নির্বাচনে ১০ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার আগেই ভোট দিয়েছেন। বিশাল ভৌগোলিক ব্যাপ্তি ও সময়ের ব্যবধানের কারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভিন্ন সময় ভোট গ্রহণ শেষ হচ্ছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোর সূক্ষ্ম গণনা চলায় চূড়ান্ত ফল আসতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হবে। বর্তমানে এই সংখ্যক আসন নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে প্রভাব বজায় রেখেছে রিপাবলিকানরা, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২১৪টি। মিশিগান, টেক্সাস, নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া সহ প্রায় ১৩টি অঙ্গরাজ্যের ভোটযুদ্ধের ওপর নির্ভর করছে নিম্নকক্ষের একক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে।
অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগুরু হতে হলে অন্তত ৫১টি আসন প্রয়োজন। বর্তমানে ৫৩টি আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা এবং ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে ৪৭টি আসন। ক্ষমতা নিজেদের পক্ষে আনতে হলে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান আসনগুলো টিকিয়ে রেখে অতিরিক্ত অন্তত ৪টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আলাস্কা, টেক্সাস, ওহাইওসহ প্রধান ৭টি প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসন এই সিদ্ধান্ত নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, এসব ভোটে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। ১৯৩৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারে থাকা দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৮টি ও সিনেটে ৪টি আসন হারিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে দেখা গেছে। ২০২২ সালেও ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের কর্তৃত্ব হারিয়েছিল।
যদি ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার উভয় কক্ষে জয়ী হতে পারে, তবে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সংকুচিত করবে। বাজেট অনুমোদন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, প্রস্তাবিত বিল পাস এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসকে তীব্র বাধা ও তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে নির্বাহী আদেশ প্রয়োগের চিন্তাভাবনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
