মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ জালিয়াতি: ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার, ১১ জন আটক
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা জালিয়াতির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অভিবাসন বিভাগ। এই অভিযানে ২৬৫টি বাংলাদেশিসহ মোট ৩৪১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক শ্রমিক নিয়োগের কোটা সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে একটি অভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযান পরিচালনা করার সময় ৩৪১টি পাসপোর্ট ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়, যার মধ্যে ২৬৫টিই বাংলাদেশের নাগরিকদের।
গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে সাতটায় কুয়ালালামপুরের আমপাং এলাকার তামান দাতুক আহমদ রাজালিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। পুত্রজায়ায় অবস্থিত দপ্তরটির গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের কৌশলগত কমপ্লায়েন্স এবং গোয়েন্দা ও প্রোফাইলিং বিভাগ সহায়তা প্রদান করে।
দেশটির অভিবাসন বিভাগের প্রধান দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভ্যন্তরীণ নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপক হিসেবে সন্দেহভাজন দুই বাংলাদেশি পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া ছয়জন মালয়েশীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক ধরা পড়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী।
অভিযানে ২৬৫টি বাংলাদেশি, ৬৩টি ইন্দোনেশীয়, ১২টি পাকিস্তানি ও একটি ভারতীয় পাসপোর্টসহ মোট ৩৪১টি ট্রাভেল নথি এবং ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে অভিবাসন প্রধান বলেন, এই চক্রটি ‘এ-টু-বি’ নামে একটি অবৈধ কৌশল ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিয়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়ে আসত। পরে তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানে না রেখে লাভের বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠাত। কর্মী নিয়োগের অনুমোদন পেতে চক্রটি ভুয়া ও অসংগতিপূর্ণ তথ্য জমা দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় আসা এসব কর্মী কোটা আবেদনকারী সংস্থায় কাজ না করে বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি কর্মী থেকে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত মুনাফা হতো। পাশাপাশি কর এড়াতে রাজস্ব নথিতে আয়ের পরিমাণ কম দেখানো এবং ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয় গোপন রাখা হয়েছিল।
