মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের তথ্যে এল ৪টি খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্তে এআই

বাংলাদেশ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ৪৫৮৯

যন্ত্রাংশ আমদানির নামে মোংলা বন্দরে আনা ৪টি কাটা দামি গাড়ি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। প্রায় পৌনে ৭ কোটি টাকার গাড়িগুলো কম মূল্যে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের তথ্যে এল ৪টি খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্তে এআই

পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে মোংলা বন্দরে ৪টি খণ্ডিত বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে আসার জালিয়াতি উন্মোচন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটকে দেওয়া চালানটি গত ১৯ জুলাই পুরোপুরি পরীক্ষা করে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। গাড়িগুলোকে ৩ থেকে ৪টি বড় অংশে কেটে চালানটিকে স্রেফ ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।

জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে গত ২০ এপ্রিল মোংলা বন্দরে পৌঁছায় ১৬৪ প্যাকেজের চালানটি। খাতাপত্রে ১৪ প্রকারের যন্ত্রাংশ থাকার কথা থাকলেও বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে মূল গাড়িগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

আটকে রাখা চালানে পাওয়া যায় ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। দেশের বাজারে এসব গাড়ির আনুমানিক সমন্বিত মূল্য প্রায় সাড়ে চার থেকে পৌনে সাত কোটি টাকা। খণ্ডিত অংশগুলোতে তারের সংযোগ ও সেন্সর অপরিবর্তিত থাকায় এগুলো জোড়া দিলে আগের রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অথচ পুরো চালানটির ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার এবং শুল্কায়নযোগ্য দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। বিপরীতে শুল্ক ধরা হয়েছিল মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মতো। মূলত বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকি দিতেই মিথ্যা তথ্যে আমদানি করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পণ্যের খণ্ডিত অংশে মূল পণ্যের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকলে তা সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবেই শুল্কায়নের যোগ্য। তাই এসকেডি সুবিধায় মোটরযান হিসেবে কর নির্ধারণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও বয়সের ওপর ভিত্তি করে মূল শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন