যুক্তরাষ্ট্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় বৃদ্ধি: 'আমেরিকান ড্রিম' অর্জনে বিপুল ঘাটতি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, গাড়ি, চিকিৎসা ও সন্তান লালনসহ কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনে আজীবন ব্যয় হতে পারে প্রায় ৫৩ লাখ ডলার। তবে গড় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় এ স্বপ্নপূরণে বড় আর্থিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন তথা 'আমেরিকান ড্রিম' বাস্তবায়নে একজন মানুষের আজীবন আনুমানিক ৫৩ লাখ ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির সামঞ্জস্য নেই। ফলে সাধারণ চাকুরিজীবী ও মধ্যবিত্তদের জন্য এই লক্ষ্য অর্জন করা ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী বছরের পুনর্গণনাকৃত হিসাবের তুলনায় আমেরিকান ড্রিম পূরণের সম্ভাব্য ব্যয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
১৯৩১ সালে নিজের 'এপিক অব আমেরিকা' গ্রন্থে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামস একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনের চিত্র তুলে ধরে 'আমেরিকান ড্রিম' ধারণাটির পরিচিতি ঘটান। তবে বর্তমান সময়ে নাগরিকদের মধ্যে এটি অর্জনের বিষয়ে সংশয় বাড়ছে। ২০২৬ সালের গ্যালাপ জরিপ বলছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান নিজেদের ক্ষেত্রে এই স্বপ্ন পূরণের বিষয়ে আশাবাদী, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ৪ শতাংশ কম।
আমেরিকান ড্রিমের খরচকে মূলত আটটি প্রধান ভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আবাসন বাবদ ব্যয় সবচেয়ে বেশি, যা আজীবন বাড়ি কেনা, ঋণের সুদ, কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার। এ ছাড়া সারাজীবনে দুটি নতুন গাড়ি ব্যবহার করতে ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার এবং দম্পতিদের স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর কাটাতে ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার খরচের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে দুটি সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করা ও তাদের উচ্চশিক্ষার পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। বিগত বছরের তুলনায় এই খাতে ব্যয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আটটি খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি চিকিৎসা খাতে ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার, পেশাগত বয়সে ভ্রমণের পেছনে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার, পোষা প্রাণী প্রতিপালনে ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার এবং বিয়ের আয়োজনে ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে।
একজনের কর্মজীবনের গড় উপার্জনের হিসাবে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী কর্মীর আজীবন মধ্যম আয় হতে পারে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের গড় সুবিধা যুক্ত করলেও তা মোট ৪১ লাখ ডলারে পৌঁছে। ফলে প্রাক্কলিত ৫৩ লাখ ডলারের জীবনযাপন ব্যয় মেটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা সংস্থার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে ব্যক্তিভেদে এই আয়-ব্যয়ের তারতম্য ঘটতে পারে।
