রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতির হামলা: দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১৩, যৌথ অভিযানের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন

কমিউনিটি নিউজ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৮৫০

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে পাঁচ দিনে চার দফা হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর এই হামলার পর রিয়াদ কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে নামার কথা ভাবছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতির হামলা: দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১৩, যৌথ অভিযানের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন

সৌদি রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচ দিনে চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।

সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো এই ঘটনার জন্য ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। শনিবারের হামলায় প্রথমে ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসাধীন এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে প্রাণহানি বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছায়। নিহতদের তালিকায় চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। মিসরীয় রাষ্ট্রীয় টিভির বরাতে জানা যায়, নিহতদের একজন ছিলেন ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২৮ বছর বয়সী বিমানবালা আজ্জা রামজি।

পরদিন রবিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩ ও ৪ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন। সোমবার সৌদি প্রতিরক্ষাবাহিনী তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করার কথা জানায়। বিমানবন্দর সংলগ্ন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেদেশের স্কুলগুলোতে অনলাইন শিক্ষা চালু করা হয়েছে এবং এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে কড়া জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ১২০টির বেশি বিমান আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবকে ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এটিকে সংঘাতের চরম বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তান, কানাডা, মালয়েশিয়া ও জাপান প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তাদের ভ্রমণ নির্দেশনায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে আশঙ্কাজনক অ্যাখ্যা দিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রিয়াদের সমর্থনে সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখলের পর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পার হয়ে সংঘাতের এই নতুন বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে ফের হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন