সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধীদের হট্টগোল, মন্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জামায়াত আমিরের
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উক্ত বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি মন্তব্য ঘিরে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানান।\n\nবৃহস্পতিবার বিকেলের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, উপস্থাপনটি সংসদীয় প্রশ্ন নাকি পল্টনের কোনো জনসভার বক্তৃতা—তা তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়। তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।\n\nপরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে, তবে সহনশীলতা বজায় না রাখলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্পিকারের বক্তব্য চলাকালে অসন্তোষ প্রকাশ করাকে তিনি জাতীয় সংসদের নীতিমালার পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন।\n\nএরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অবস্থানের সপক্ষে বক্তব্য রেখে জানান, ঢালাও বা অস্পষ্ট তথ্যের বদলে বিরোধীরা নির্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।\n\nজবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম থেকেই বিরোধী সদস্যদের খাটো করে কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হতে সেখানে যাননি এবং শিক্ষাদানের ইচ্ছে থাকলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য অবিলম্বে কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান তিনি।
