হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিক হত্যার আল-কায়েদা হুমকি
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে আটক মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সেনাক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করা হলে মার্কিন সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটানোর সতর্কতাও দিয়েছে সংগঠনটির সমর্থকেরা।
গত ১২ অক্টোবর আরব উপদ্বীপভিত্তিক আল-কায়েদা শাখা (একিউএপি) এক বার্তায় জানায়, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের দণ্ড কার্যকর করা হলে তাদের কাছে আটক থাকা যেকোনো মার্কিন নাগরিকের প্রাণ নেওয়া হবে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপ জিম্মিদের একই পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে। এ ছাড়া সম্প্রতি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলাচেষ্টায় জড়িত এক ওমানি নাগরিকের প্রতিও সমর্থন প্রকাশ করেছে দলটি।
এর আগে ইয়েমেনের এক আল-কায়েদা সমর্থক টেলিগ্রামে ২০১০ সালে ওসামা বিন লাদেনের দেওয়া এক বার্তার উল্লেখ করে সতর্ক করেন। সেখানে বলা হয়, হাসানের সাজা কার্যকর হলে মার্কিন উড়োজাহাজ ছিনতাই ও সেনা হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করেন সাবেক এই সেনা চিকিৎসক ও মেজর। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালত তাঁকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে চরম দণ্ড দেয়। হামলার আগে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে তাঁর ইমেইলে যোগাযোগ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ অক্টোবর হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ৬ অক্টোবর সেনাবিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় ফোর্ট হুডেই গুলি করে সাজা কার্যকরের নির্দেশ দেন। এটি বাস্তবায়িত হলে ১৯৬১ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯৪৫ সালের পর প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে দণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটবে।
দণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা গেলেও পেন্টাগন জানিয়েছে যে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা এখনো বহাল আছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসানের আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন, যা এই প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিতে পারে। আল-কায়েদার এই হুমকি জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন চাপ তৈরি করলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
